EIIN 105992

01716026266

bnabshs105992@gmail.com

EIIN 105992

01716026266

bnabshs105992@gmail.com

প্রচ্ছদ / আমাদের সম্পর্কে

ভূবনঘর-নহল আলহাজ্ব আবদুল বাতেন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার শান্ত ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ভূবনঘর গ্রামে জ্ঞানের আলো ছড়ানোর উদ্দেশ্যে ১৯৯৩ সালের ৩রা ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় ভূবনঘর-নহল আলহাজ্ব আবদুল বাতেন সরকার উচ্চ বিদ্যালয়। এই মহৎ উদ্যোগের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন এলাকার বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী, দানশীল ব্যক্তি ও সমাজসেবক আলহাজ্ব আবদুল বাতেন সরকার। তিনি শিক্ষার উন্নয়নকে জীবনের অন্যতম ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন এবং নিজের নাম অমর করে রাখতে নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্মকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বিদ্যালয়টির নাম ভূবনঘর ও নহল—এই দুই গ্রামের ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের প্রতীক হিসেবে রাখা হয়।

প্রতিষ্ঠার সময় গ্রামীণ জনপদে শিক্ষার অবকাঠামো ছিল খুবই সীমিত। অনেক প্রতিভাবান শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে লেখাপড়ার সুযোগ হারিয়ে ফেলত। এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ফলে আশেপাশের গ্রামের অসংখ্য দরিদ্র, অনাথ ও নিরীহ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার দরজা উন্মুক্ত হয়। তারা শুধু বইয়ের জ্ঞানই নয়, বরং শৃঙ্খলা, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও দেশপ্রেমের মতো জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ শিখতে থাকে।

বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকবৃন্দের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এখানে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ভালো ফলাফল অর্জন করছে। অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মরত আছেন, যা এ প্রতিষ্ঠানের গৌরবকে বহুগুণে বৃদ্ধি করেছে।

শিক্ষার পাশাপাশি বিদ্যালয়টি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও বিশেষ মনোযোগ দেয়। ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, বিজ্ঞানমেলা, জাতীয় দিবস পালন—সবকিছুতেই শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, দলগত কাজের মনোভাব ও নেতৃত্বগুণ বিকাশে সহায়তা করে।

আজ এই বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং ভূবনঘর ও নহল অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন, আশা ও উন্নয়নের প্রতীক। আলহাজ্ব আবদুল বাতেন সরকারের দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি প্রমাণ করেছে যে, একজন মানুষের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও অটল সংকল্প কীভাবে একটি সমগ্র প্রজন্মের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। এই প্রতিষ্ঠান আগামী দিনগুলোতেও শিক্ষার আলো জ্বালিয়ে সমাজকে আলোকিত করতে অবিচল থাকবে—এটাই সবার প্রত্যাশা।

Creating Document, Do not close this window...